অথঃকুকুরকথা
হন্যে কুকুর ঘুমিয়ে থাকে মানুষের রক্তের শয্যায়
কখনো বেরিয়ে আসে লোকালয়ে
চারপাশে ছড়িয়ে দেয় দুরারোগ্য জলাতঙ্ক
মানুষের পায়ের কাছে বহুদিন বসে থেকেও
তাদের ভেতরের কুকুরটাকে দেখতে পাননি কবি
অথচ আজ একুশের মঞ্চে
একবিংশ আলোয় দর্শকের সারিতে বসে
অবিকল মানুষের মত দেখতে
আমি একটি হিংস্র অথচ স্মার্ট কুকুরকে দেখেছি
শান্তিবাদী মানুষের দিকে তার ভয়াল রক্তচক্ষু
তার লোভপুষ্ট জিহ্বা থেকে
সবুজ কার্পেটে ঝরে পড়ছিল বিষাক্ত লালা
আমার পাশেই ভয়ে থরথর করে কাঁপছিল
আমার দুঃখিনী বর্ণমালা
আর ফাগুনের চাদরে ঢাকা দর্শক গ্যালারীতে
টুংটাং বেজে উঠছিল গিটারের কান্না
কেউ দেখেছিল কিনা, শুনেছিল কিনা আমি জানি না
চকচকে শরীর, স্বরবর্ণ খচিত পোশাকের নিচে
হন্যে কুকুর কীভাবে ওৎ পেতে বসে থাকে
একমাত্র আমিই দেখতে পেয়েছি
মানুষের ভেতরের কুকুরটাকে
একুশ এলেই আমি খুব সহজেই চিনতে পারি
ডেথ ফ্যান্টাসি
আমার মৃত্যুকে আমি ঘুম পাড়িয়ে রেখেছি ঘরে
পদ্যের পাশবালিশে হেলান দিয়ে
কী চমৎকার ঘুমিয়ে আছে সে
অবুঝ শিশুর মত মুখে আঙুল ডুবিয়ে
মৃত্যুকে ঘুমাতে দেখে তোমারা হাসতে থাকো
জ্যাক দেরিদা অবশ্য বলবেন
এটা হাসি নয়, কান্নার ভেরিয়েশান
কান্না হোক বা হাসিই হোক, কি আসে যায় মৃত্যুর
ও, ওরিয়েন্টালিজম বোঝে না, কিন্তু কবিতা বোঝে
অবশ্য সব কবিতা নয়, বাংলাদেশের দুর্গম কবিতা
সেই কবিতা শুনতে শুনতেই ঔপনিবেশিক বিছানায়
এমনি করে ঘুমিয়ে পড়বে আমি বুঝতেই পারিনি
ছায়াসঙ্গী মৃত্যুকে ঘুমাতে দেখে
আমি যখন আয়েশে বইয়ের পাতায় দুচোখ রাখি
সেলফে রাখা উপহার পাওয়া বন্ধুদের বইগুলো
বহুগামী বউয়ের মত আমাকে জড়িয়ে ধরে
ভয়ে আমি চিৎকার করি, তবু ওর ঘুম ভাঙে না
দোজখধর্মে ধর্মান্তরিত বাংলাদেশের পাণ্ডুলিপি থেকে
অতঃপর পাঠ করতে থাকি অভিশপ্ত কবিতাগুলো
মৃত্যুর ঘুম আরও দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে থাকে
অথচ হাসতে হাসতে আত্মহত্যা নেমে আসে রাজপথে
বুঝতে পারি না আত্মহত্যা মৃত্যুর প্রতিপক্ষ কিনা!
কেননা আমার সাথে আজ আর মৃত্যু নেই
কিন্তু আত্মহত্যা আমার হাতে
তুলে দিচ্ছে চকচকে বিষের বোতল।